মনোরঞ্জন ব্যাপারীর গল্পগুলো দলিত শ্রমজীবী পীড়িত মানুষের বহুস্বর হয়ে ধরা দেয়। ভালো করে আত্নজীবনী পাঠ করলে বোঝা যায় আত্নজীবনীর “আমিই”-ই বারংবারে নানারুপে ফিরে আসে গল্পগুলো। কিন্তু এই আমি একজন নয়। মনোরঞ্জন তার এক আমি’র ভিতরে ধারণ করেন। প্রান্ত সমাজের আরো অনেক আমি’-কে যারা আমাদের আখ্যানবৃত্তের মূলস্রোতে ,সংস্কৃতির-স্মৃতির -আত্ননির্মানের শিকড় অনুসন্ধানের পথে “ওরা” হয়েই থাকে। তাদের চোখে বিশ্বদর্শনের সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। আমাদের জাতি ও শ্রেনি বিভক্ত সমাজে । অনেক সময় তারা দেখার বিষয় হয় মূলস্রোত সাহিত্যে। কিন্তু তাদের দেখাকে আমরা দেখতে পাই না। দলিত লেখকের দেখা সুতরাং কেবল দলিত শ্রমজীবী প্রান্তিক মানুষকে দেখা নয়, তাদের চোখ দিয়ে দেখা। ব্যাপারীর ছোট গল্পগুলি এখানে এই ছোটলোকের দেখার বিস্তার। মনোরঞ্জন আত্নজীবনীর বাইরে বেড়িয়ে গল্পগুলোয় নিজেকে এই সমাজের প্রতিনিধি করে তোলেন না, অন্যের মুখ দিয়ে বলান তাদের গল্পগুলো। সমাজের নিম্নশ্রেনির মানুষদের লড়াই , অবস্থান, জীবন-যাপন নানাভাবে গল্প সংকলনে উঠে এসেছে।