কবিতার নদী যার শিরায়-উপশিরায় অচঞ্চল প্রবহমান, শব্দরা আচমকা ঘাই মেরে ওঠে যার রক্তের ভেতর; তেমনই এক চিরতরুণ নিঝুম খান। তার মস্তিষ্কের নিউরণে বল্গা-হরিণীর মতো খেলা করে পরিমিত ও পরিশীলিত বোধ। তার কবিতায় উঠে আসে আমাদের নৈমিত্তিক যাপনের রুঢ় বাস্তবতা, উঠে আসে এমন এক জীবনদর্শন যা অহোরাত্র আমাদের পাশঘেঁষে ছুটে চলে রেললাইনের মতো, অথচ আমরা দেখতে পাই না কখনোই। নিঝুম খানের কবিতা পরিসর বিবেচনায় বনসাই সংস্করণ মনে হলেও সেগুলো বোদ্ধা পাঠককে চরম ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম। একটি কবিতাকে প্রসঙ্গ করা যাক। চেকপোস্টে পুলিশের তল্লাশিতে কবির ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে একজোড়া চোখ, কান ও একটি মগজ। এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কবির নিজের। এমন বিরূপ সময়ে ঘর থেকে বের হতে হলে যথাসম্ভব অন্ধ বোবা ও বধির হতে হয়। তাই কবি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে ব্যাগে পুরে বের হয়েছেন। সময়ের অভিঘাতকে কবিতায় এমন সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্মভাবে তুলে আনতে পারে, নিঝুম খানের মতো এমন সর্বদর্শী জাদুকর এই অন্তর্মুখী সময়ে সত্যিই বিরলপ্রজ। জন্মান্ধ জাদুকর গ্রন্থের কবিতাগুলো পাঠে যেকোনো মননশীল পাঠক ঋদ্ধ হবেন, একথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায়।