যারা চেয়ে নিয়েছিল জলের রক্ষার ভার, তারা রক্ষ। আর ঋকবৈদিকে মতে, যাকে বলি দেওয়া হয় মহাকালের যজ্ঞে সেই হল পুরুষ। দুইয়ে মিলে রক্ষপুরুষ। বহু সহস্র বছর আগে এই ধূলামাটির ধরায় তেমনই এসেছিল এক রক্ষপুরুষ, যার কালবৈশাখী তাণ্ডব ধুয়ে দিয়েছিল আমেরুসাগর ক্ষুদ্রজনের আত্মবিভোর বসন্তলাস্য; উড়িয়ে দিয়েছিল শতবছরের স্থবির সমাজব্যবস্থা, শুষ্কপাতার মতোই। ঘন হয়ে আসা সেই আঁধারী বিকালে বৈশাখীর নিরন্তর অশনিলাঞ্ছনের মধ্যে শুধু অদম্যা আশা হয়ে জেগেছিল রক্তবৃষ্টিভেজা সরসিজের দল, নিষ্ক্রিয় পুরুষের প্রতিস্পর্ধায় সক্রিয়া প্রকৃতি – কোথাও তার নাম অঞ্জনা, কোথাও মীনাক্ষি। কোথাও ঋক্ষ্যা, কৈকেয়ী, কোথাওবা তারা, সাগরিকা, স্বয়ংপ্রভা। সেই কালবৈশাখী আর সেই সকল সরসিজের কথা বলে প্রতিবর্তের ‘কালদক্ষিণা’। রামায়ণের অচেনা প্রাককথনে, ক্রমশ বদলে যেতে থাকা ভারতের সমাজ-রাজনৈতিক সংঘাত, নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব, সভ্যতার বিবর্তন আর সভ্যতার বিলোপের গল্প শোনায় কালদক্ষিণা। পুরুষোত্তমের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে যে রক্ষপুরুষ, সেই রাবণের পথ চলাই কালদক্ষিণা।