মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব হাওলাদার কখনো কারো পাকা ধানে মই দেননি। কোনোদিন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। তবুও সারাজীবন তাঁকে অনেক গঞ্জনা সইতে হয়েছে। অনেক আজেবাজে কথা মুখ বুজে হজম করতে হয়েছে। একটিমাত্র কারণে। শুধু একটি কারণে এতটা সহ্য করার ক্ষমতা আবু তালেব ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কারণটা জানা গেলেও শানে-নজুল জানা যায়নি।কেননা আবু তালেব কোনোদিন মুখ খোলেননি। আবার যাকে নিয়ে ঘটনা, সেই বেসোকা বেগমও মুখ খোলেননি। ফলে বিষয়টা এখনো রহস্য অথবা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। আর এই অবস্থায়ই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব হাওলাদার ইন্তেকাল করলেন। বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে বড় ছেলে সবুজ হাওলাদার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে রওনা হলেন। তিনি এখন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস পাস করে বিভিন্ন পদে চাকরি করার পর এই পদোন্নতি পেয়েছেন। সরকারি পাজেরো জিপে রওনা হওয়ার সময় দেখা গেল তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত। বাবার ওপরে যে কারণে একটু ক্ষোভ ছিল, সেটা এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।