"কাঙ্ক্ষিত সূর্যোদয়" বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখা তােমার এ তীব্র আত্মসম্মান জ্ঞানই আমাকে প্রচণ্ড শক্তিতে টানে। এ এক অন্তহীন, সীমাহীন, বাধাহীন আকর্ষণ প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। আমার বিয়ের জন্য বাবা-মা চেষ্টার ত্রুটি করছেন না। প্রতিদিনই বিপুল উদ্যমে মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছেন তারা। রূপবতী, গুণবতী, বিত্তশালী। কিন্তু যে রূপ, যে গুণ, আর যে সম্পদ আমার আরাধ্য, আমাকে নিশিদিন অভিভূত করে রাখে, লােভ বা লাভের সীমা অতিক্রম করতে দেয় না সে মহা ঐশ্বর্যশালিনীর সন্ধান তাে তারা জানেন না। আমি বলতেও পারছি না, তুমি রাজি হচ্ছে না বলে। আমাকে বল, এখন আমি কী করব?' অয়নের কণ্ঠে আকুল অনুনয়। সীমার আর শুনতে ইচ্ছে করছে না। তার বুকের বা দিকটার ভার ক্রমশই অসহনীয় হয়ে উঠছে। কী বলবে সীমা? অয়নের এ প্রচণ্ড ভালােবাসাকে অস্বীকার করার শক্তি তার নেই। দুর্দম, দুর্বিনীত, আসুরিক শক্তিতে টানে সে, রাতের ঘুমকে হারাম করে দেয়, বিনিদ্র রজনী স্বপ্ন দেখতে দেখতে চলে যায়। সীমা শুধু মনে মনে বলল, ‘হে আল্লাহ, এমন করে কোনাে মেয়ের পরীক্ষা তুমি নিও না। নারীমন বড়ই দুর্বল, অসহায়, লােভী। প্রলােভনের ফাদে ফেলে এদেরকে কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করে দিও না, সংসারের প্রতি আকর্ষণ যেকোনাে মেয়ের কাছে মধ্যাকর্ষণের চেয়েও তীব্র, প্রচণ্ড, সীমাহীন।'