এ যাবৎকালে কবি আসাদুল্লাহ্ সর্বশেষ কাব্য- খচ্চরীয় স্বদেশ এখন। কাব্য নামেই স্বদেশ স্বকালের পরিচয় বিধৃত। কবি বলেন- ‘তারা তো খচ্চর অধি এবং ঊন ক্রমোসোমে/ ঘোড়াও না গাধাও না; ...খচ্চরীয় দুষ্টচক্রে স্বদেশ এখন/ আমাদের দেখি কোন তন্ত্র মন্ত্র নেই/ খচ্চরীয় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যতীত’- কী রূঢ় উচ্চারণ! কিংবা ‘এপাটি ওপাটি সমান ঘেরাও বন্দি আমলোক/ অহরহ বুঝতাছি মরতাছি উদ্ধার নাইকা;’ -দেশকালের এমন বাস্তব চিত্রময় বর্ণনা কিংবা চিত্রকল্প কাব্যিক উৎকর্ষের দৃষ্টান্ত বৈ কি! প্রেমের উচ্চারণেও কবি অনন্য। তিনি বলেন-‘বঙ্গ কোন রঙ্গ নয়, সোনার চেয়ে খাঁটি মাটি মা/ কবিতা আমাকে লেখে, আমি তো কবিতা লিখি না’; ‘আঁচলভরা ফুল নয়/ পাঠিও এক আঁচল বৃষ্টি ধরে/ শখ মিটিয়ে স্নানের শান্তি নেব’; কবি ‘মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা’- বলতে নারাজ। তিনি বলেন- ‘স্বাধীনতার ছিল না কোন শর্ত/ না; স্বাধীনতা ছিল না কোন বিনিময়;/ নারীত্ব শক্তির শান সূর্যশস্য বীজ স্বাধীনতা’। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত তার শ্লোক- ‘মানুষের জীবনের যন্ত্রণা মর্মপীড়া দুর্মর/ দুর্লক্ষ্য বিরাম চিহ্ন দাড়ি কমা যতি-/ কালের কথা বলতে গিয়ে তাই/ প্রকৃতি বিরুদ্ধ আজ আমার প্রকৃতি;’ -অর্থাৎ প্রকৃতি বা নিসর্গ কবিকে আর মুগ্ধ করে না, কারণ মানুষের দুঃখে তিনি পীড়িত।