গদ্যশিল্পের অন্যান্য ধারার মতাে আহমেদ খান। হীরক রম্যগল্পেও হীরকখণ্ডের মতাে উজ্জ্বল। তিনি নিজে হাসতে পারেন, পাঠককে হাসাতে পারেন। এই কাজটি তিনি করেন স্বচ্ছন্দে। গল্পের প্রয়ােজনে তাঁর লেখায় চলে আসেন রবীন্দ্রনাথ থেকে জীবনানন্দ, হিমু থেকে মিসির আলি...। এই চরিত্রদের সাবলীল উপস্থিতি পাঠকের মনে উদ্রেক করে বিস্ময়মিশ্রিত কৌতুক । এখানেই লেখকের সহজাত কৃতিত্ব। বইটি সম্পর্কে হীরকের নিজের ভাষ্য— ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, রসিকতার ছলে মাঝেমাঝে কঠিন কথা বলার চেষ্টা থাকলেও খুব যে কাজের কিছু হয়েছে তা আমার মনে হয় না। বরং পাঠক পড়ে হতাশ হয়ে হয়তাে বলবেন— কী একটা অবস্থা! এই বইটিতে যিনি চেনাপরিচিত অনেককে নিয়েই ব্যঙ্গ করেছেন, তিনি নিজেকে নিয়েও যে তেমনই কিছু করবেন সেটা বলাই বাহুল্য। বাস্তবে বইয়ের প্রতিটি রম্যগল্পই দেখিয়ে দেবে হাসিঠাট্টা আর মজার আড়ালে লুকিয়ে রাখা এই সমাজের বর্তমান অবস্থা।