রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ছোটোগল্পের আবেদন ফুরোবার নয়। মানুষ-প্রকৃতি-পরিবেশের বাস্তব ঘটনাকে কল্পনার রঙে রাঙিয়ে নিয়ে মনোরম ভঙ্গিতে তিনি গল্পের বয়ান দেন। বিষেশত বাংলাদেশের জীবন, স্বভাব ও মানুষের বাস্তব রূপ ও রং নিয়ে গল্পের চরিত্রগুলি ফুটিয়ে তুলেছেন। কিশোর-কিশোরীেেদর জন্য লিখিত গল্পগুলি তাঁর অনুপম সৃষ্টি। তিনি বলেছেন, ‘এক সময়ে ঘুরে বেড়িয়েছি বাংলার নদীতে-নদীতে, দেখেছি বাংলার পল্লির জীবনযাত্রা। একটি মেয়ে নৌকো করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেল, তার বন্ধুরা ঘাটে নাইতে [নাইতে] বলাবলি করতে লাগল, আহা সে পাগলাটে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ওর কি না জানি দশা হবে। কিংবা ধরো একটা খ্যাপাটে ছেলে সারা গ্রাম দুষ্টুমির চোটে মাতিয়ে বেড়ায়, তাকে হঠাৎ একদিন চলে যেতে হল শহরে মামার কাছে। এইটুকু চোখে দেখেছি, বাকিটা নিয়েছি কল্পনা করে।’ ছোটোগল্প লেখার মূলে রবীন্দ্রনাথের ছিল এই বাস্তব অভিজ্ঞতা। আর বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভাবনিষ্ঠা ও রূপনিষ্ঠার এমন অপূর্ব মিলন এসব ছোটোগল্পের সর্বজনীন সৌন্দর্য। সুখে-দুঃখে, মিলনে-বিচ্ছেদে, স্নেহ-মমতায় পূর্ণ এই গল্পগুলি কিশোর-কিশোরীদের কাছে অভিনন্দিত হয়েছে বহুকাল আগেই।