কেয়ামতের আলামত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে, এই দুনিয়ায় শোষকদের শোষণের একটিমাত্র কারণ যে, তারা অনন্তকাল এই দুনিয়ার কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব মেনে নিতে চায়, কিন্তু বাস্তব সত্য, তাদেরকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় এবং মাল রেখেই আলমে বরযাখে আশ্রয় নিতে হয়। যার চুড়ান্ত পরিণতি হাশরের ময়দানে একটি বিচারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা। বুদ্ধিজীবী ইনসানরা এই কেয়ামত, মানুষের পুনরুЌান নিয়ে অবাক হয়ে যায়, এটি কী আসলেই ঘটবে? এই প্রশ্ন রাসুল (সাঃ) কে সমকালীন বুদ্ধিজীবীরা করেছিল, এর জবাব খোদ আল্লাহই দেন: যদি আমি প্রথম সৃষ্টি করতে পারি, আমি কেন তাদেরকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে পারবো না? অর্থাৎ এটি তার পক্ষে একটি সহজ কাজ। যদি তাই হয়, তাহলে কেয়ামত কখন ঘটবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন, কেয়ামত পায়ে বাধা জুতার ফিতা যতদূর, তার থেকেও নিকটবর্তী। তিনি কেয়ামত আসার কিছু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছিলেন, যা এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। যেমন, একটি মজার কথা নবী বলেছিলেন তা হচ্ছে : কলমের বিস্তার লাভ করবে কিন্তু জ্ঞান উঠে যাবে। আমার কাছে এই বিষয়টি খুবই চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে। কলমবাজ স্বাক্ষর দাতার দৈৗরাত্ম দেখি, যারা কেবল জনগণের মনিব সেজে সরকারী প্রতিষ্ঠানে বসে এই কলশ দিয়ে স্বাক্ষর করে কী ভয়াবহ লুটপাটে ব্যস্ত। একবার আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ঢাকা জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের (তখন এই নামই ছিল) কার্গ বিভাগে । সেখানে শুল্ক বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। দেখলাম তিনি সুন্দও একটি কলমে নিয়ে বড়াই করছেন এবং সেটিকে তিনি তার আয়ের বা অন্য অর্থে লুটপাটের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি নাকি সকালে খালি ব্যাগ নিয়ে অফিসে যান আর ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরেন। তার কাছে প্রজ্ঞা, মানব কল্যান, মজলুম মানুষের আহাজারী, সত্য-মিথ্যা, কোন কিছুই স্থান পায় না। এ ভাবে অশ্লীলতার বিস্তার, ইয়াজুজ মাজুজ, এক চোখা দাজ্জালের আগমন, নারীর আধিক্য এবং পুরুষের স্বল্পতা, ভূমিধস, আকৃতির পরিবর্তন। হারজ বৃদ্ধি পাবার একটি বিষয়ও এসেছে এটির অর্থ করা হয়েছে যে হতাহত বৃদ্ধি পাবে ( এ সংক্রান্ত বিষয়টি মাসাআলা – ১২, ১৩ সহ আরও অনেক )। যে অন্যকে হত্যা করবে সে জানবে না সে কেন তাকে হত্যা করেছে, আবার যে হত্যার শিকার হয়েছে, সেও জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে- এবং বলা হচ্ছে উভয়ই জাহান্নামী হবে, কেন মৃতও ঘাতককে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা অনেকইে কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ বলি। কিন্তু সেই রাসুল (সাঃ) তাহলে কাকে “হারজ” বলছেন? এদিকে গ্রন্থের -৯৫ নং মাসআলাতে এও বলা হচ্ছে কিয়ামতের আগে দ্বীনি ইলম এত প্রচারিত হবে যে, পৃথিবীর আনাচে কানাচে ইসলামের দাওয়াত পৌছে যাবে। আবার -২৩৬ নং মাসআলা তে বলা হচ্ছে কিয়ামতের পূর্বে অন্যান্যদের তুলনায় খ্রীস্টানদের সংখ্যাধিক্য হবে এবং ২৩৭ নং মাসআলাতে বলা হচ্ছে : কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে পৃথিবীতে আল্লাহর নাম নেওয়ার মত একজনও লোকও থাকবে না। যে হিসেবে কেয়ামত এখনও অনেক বাকী। তবে যে সময়ে সাপেক্ষে রাসুল (সাঃ) কেয়ামতকে নিকটবর্তী বলেছেন, তা ঠিক আছে। কারণ ইতোমধ্যে পৃথিবী কত বছর অতিক্রম করেছে, তার কোন হিসেবে আমাদের কাছে নেই। সার্বিক বিবেচনায় এই গ্রন্থটি চিন্তাশীল লোকদের চিন্তার খোরাক যোগাবে আশা করছি। শব্দ : ৮০৫ (মুহাম্মদ শামীম আখতার)