দিলরুবা শাহাদৎ। কবিতা সংসারে এক সচল অভিযাত্রী। বৈচিত্র্যময় কবিতার ভুবন তাঁর। তিনি কাবিতাকে নিয়েছেন আপন সত্তার গভীর পরম মমতায় ভালোবেসে। কবিতা তাঁকে নিয়েছে শব্দনিকুঞ্জের গভীর ছায়ায়। কবিতা বিনির্মাণে দিলরুবা শাহাদৎ যেমন অক্লান্ত, তেমনি আন্তরিক। তাঁর কবিতায় অবলীলায় ছায়া ফেলে মানুষের নানামাত্রিক জীবন, ছায়া ফেলে রোদবৃষ্টির গল্প। তিনি হৃদয়াবেগে ছবি আঁকেন বাংলাদেশের ষড়ঋতুর যেখানে আমরা পাই হেমন্ত, শীত, বসন্ত-বর্ষার মতো ঋতুসম্ভার। নির্দ্বিধায় তাঁকে বলা যায় কবিতা-অন্তপ্রাণ এক নিষ্ঠাবান কবি। এই বইয়ের কবিতাগুলো বিশেষ এক সময়কে ধরে রেখেছে শাব্দিক আভরণে। একটা বেদনাবিধুর সময়ের ছবি তিনি আঁকতে চেয়েছেন তাঁর সুনিপূণ কাব্যশৈলীর মাধ্যমে। কৃতিত্বে ভরা জীবন তাঁর। লেখালেখি এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি অর্জন করেছেন অনেক পুরস্কার, পদক, সম্মাননা ও সংবর্ধনা। তাঁর অর্জন যুক্ত হয়েছে সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন স্মৃতিপদক, রাজশাহী সাহিত্য-পরিষদ পুরস্কার, ঈশ^রদী নোঙর সাহিত্য পুরস্কার, ঢাকার বেগম রোকেয়া পদক, বগুড়ার দুপচাঁপিয়া লেখক সংঘ পুরস্কার, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার স্মৃতিপদক, বগুড়া কবিতা সংঘ-স্বর্ণপদক, ঢাকার মওলানা ভাসানী স্মৃতি পদক ও সৈয়দপুর শিলা সাহিত্য সংসদ পদক। একক ১৩টি কবিতার বই ছাড়াও তিনি বিশিষ্ট কবি মহফিল হক-এর সঙ্গে যৌথবাবে সম্পাদনা করেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের শিশুসাহিত্য’। সংবর্তক নামে একটি সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া তাঁর নিজের সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘অঞ্জলিকা’ তো রয়েছেই।