তারাশঙ্কর বাংলা গল্প-সাহিত্যে, একটি সম্পূর্ণ নূতন দৃষ্টি এবং রসসৃষ্টির একটি নূতন ক্ষেত্র যোজনা করিয়াছেন, আমার মনে হয়, ইহার সম্যক সজ্ঞানতা আমাদের সাহিত্য রসিকগণের চিত্তে এখনও ঘটে নাই। আমিও কিছুদিন পূর্বে একটি প্রবন্ধে বর্তমানবাংলা গল্প-সাহিত্যের যে একটি মোটামুটি পরিচয় দিয়াছিলাম, তাহাতে তারাশঙ্করের সাহিত্যিক প্রতিভার দুই-একটি লক্ষণ নির্দেশ করিয়াছিলাম, তাঁহার দৃষ্টি বা কল্পনাভঙ্গির গভীরতার উল্লেখ করিয়াছিলাম, কিন্তু বাংলাসাহিত্যের পক্ষেই তাঁহার ঐ প্রতিভার যে একটি অতিশয় মৌলিক, এবং বোধ হয়, গূঢ়তর দিক প্রথম হইতেই দেখা দিয়াছে, সে সম্বন্ধে তখনও আমি স্পষ্ট করিয়া কিছু বলিতে সাহস করি নাই। তারপর 'কবি' নামে এই বড় গল্পটি পাঠ করিয়া আমি তারাশঙ্করের কবিশক্তির মূলপ্রেরণা বা প্রধান লক্ষণটির সম্বন্ধে নিঃসংশয় হইতে পারিয়াছি।