“লজ্জা লাগে না তোর? আপনজনের সঙ্গে বেইমানি করতে কি একটুও বিবেকে বাধে না?” মেয়েটির কথায় সংবিৎ ফিরে পেতেই ছেলেটা উঠে দৌড়াতে গেল। উঠে আবার ধপাস করে পড়ে গেল সে। তার পা রশি দিয়ে বাঁধা। তাড়াহুড়ো করে হাত দিয়ে পায়ের রশি খুলতে লাগল। এমন সময় ‘ঘ্যাঁচ’ করে শব্দ হলো। মেয়েটার রামদার এক কোপে ছেলেটার এক হাত কেটে মাটিতে ছিটকে পড়ল। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে লাগল। ছেলেটা অন্য হাত দিয়ে কাটা জায়গাটা চেপে ধরে গগনফাটা চিৎকার দিল। তা দেখে মেয়েটা হাসতে হাসতে বলল, “চিৎকার কর। ঠিক এইভাবেই চিৎকার কর। তুই যত চিৎকার করবি, ততই শান্তি।” ছেলেটা ব্যথায় চিৎকার করতে করতেই বলল, “কে আপনি? আমাকে মারতে চান কেন? আমি কী করেছি?” মেয়েটি অদ্ভুত হাসি দিয়ে বলে উঠল, “এই প্রশ্নটা আমাকে করলি, নাকি নিজেকে?” ছেলেটার হাত বেয়ে এখনো রক্ত ঝরছে। সে পালানোর কথা ভুলে গিয়ে নিজের রক্তপাত থামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতেই বলল, “আমাকে ক্ষমা করে দাও।” মেয়েটা কণ্ঠ কঠিন করে বলল, “ক্ষমার যোগ্য ব্যক্তির কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা আশা করা যায়। তোর সঙ্গে ‘ক্ষমা’ শব্দটা মানায় না।”