মানুষের রচিত নিষ্পেষিত মানবতা দেখে হৃদয় আজ মর্মাহত। মানুষ ও মানবতা বিবেকের জায়গায় থাকা দরকার। অধিকার সন্ধানের চক্করে ক্ষুধা ও তেষ্টার লজ্জা ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে। তিনি জানেন, লড়াইটা আসলে ক্ষুধার বিরুদ্ধে। খাবারের আলাদা কোনও ধর্ম নেই, খাবার নিজেই একটি ধর্ম। কথাটি ধ্রুব সত্য। কারণ, অন্ন কখনও জাতি, ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, ধনী, দরিদ্র বিচার করে না। সে নিরন্নের ক্ষুধা নিবৃত্তি করে। নিরপেক্ষ এবং নিশ্চিতভাবে। যে খাবার ধনী-পরিবারের খিদে মেটায়, সেই একই খাদ্য দরিদ্র-মানুষেরও ক্ষুধা নিবৃত্তি ঘটায়। খাদ্যের অধিকার বলে এদেশে কোনও আইন আছে? ‘ভাতের কী গন্ধ, কী মমতা ক্ষুধার্ত ছাড়া কে জানে? ক্ষুধার্ত-পাগল হা করে বসে রইলাম ওগো, কয়টা ভাত দেও! ক্ষুধার কোনও ধর্ম নেই। চোখের কোনও লজ্জা নেই।’ আমি এখনও মানুষ, সেটাই লালন করি। অভাব হতে পারে আপনার জীবন-সঙ্কটের কারণ। ‘এই মিছিলে সবার মতো আমিও শূন্য বাসনে আমারও স্বপ্ন জাগে উপোস-ঘরে।’ ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, দংশনে-দর্শনে ভুগছি লজ্জা আর এই নিষ্ঠুর ক্ষুধার ধর্ম জানা নাই।’ এই অবুঝ বেদনা থেকে ‘ক্ষুধার কোনও ধর্ম নেই’ গ্রন্থ রচনার ইচ্ছে জাগে। আশা রাখি, আপনাদের হৃদয়ে স্থান করে নেবে।