লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা – ফেরদৌসী রহমান | বইসদাই | বইপোকা
ফেরদৌসী রহমানের কাছে সংগীত মানে জীবন। শিল্পী বাবার সুবাদে শিশুকাল থেকে সংগীতের মধ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা। গান গেয়ে, গান শুনে এবং সংগীতকে ভালোবেসে পেরিয়ে গেছে জীবনের ৮০টি বসন্ত। আজও প্রথম দিনের মতো একই রকম ভালোবাসেন তিনি সংগীতকে। ছোটবেলায় তাঁর স্কুলে যাওয়ার পথে পড়ত একটা বিরাট পানিয়াল ফলের গাছ। ফল খাওয়ার সময় ছড়া কাটত মেয়েটি 'আম পাকে জাম পাকে, হাতেতে পানিয়াল পাকে।' হাত দিয়ে টিপে টিপেই পানিয়াল ফল পাকাত সে। তাতেই টক ফল হয়ে যেত মিষ্টি। জীবনের এই প্রান্তে এসে মেয়েটি উপলব্ধি করে, জীবনটাও সে রকম—'পানিয়াল ফল'-এর মতো। বাবাকেই তিনি গুরু মানেন। তিনিই তাঁর ওস্তাদ, পথপ্রদর্শক। আব্বাসউদ্দীন চেয়েছিলেন মেয়ে তাঁর আর সবার চেয়ে আলাদা হবে। তার নিজস্ব পরিচয় দাঁড়াবে, সে স্বাবলম্বী হবে। বাংলা সংগীতকে সে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে। ফেরদৌসীর কাছে সংগীতই প্রেম; তাঁর জীবনে অমূল্য সম্পদ। আবার এই গান তাঁর জ্বালাও। সংগীতকে ভালোবেসে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। সেই কষ্টও তাঁকে অপার আনন্দ দিয়েছে। তাঁর সেই আনন্দময় জীবনের অভিজ্ঞতা বিধৃত হয়েছে এই স্মৃতি-কাহিনিতে।