কথা ছিলো স্বপ্নার শুভ্র কমল হাতে মেহেদির আল্পনা হবে। আলতা রাঙা যুগল পায়ে নূপুর বাঁজবে রিনিঝিনি। তপ্ত-নরম মৌয়িত অঙ্গে লাল বেনারসি শাড়ি পড়ে বধূ বেশে স্বামীর ঘরে যাবে। বাহারি ফুলে ছাওয়া স্বপ্নীল বাসরে রঙিন জরিন আঙ্গনে চাঁদ বরণ মুখটি লুকিয়ে ভীরু রোমাঞ্চিত মনে বসে থাকবে সজলের উষ্ণ-দ্যুষ্ণ ¯পর্শের তরে। ভালোবাসার ছোঁয়ায় ফুলশয্যার ফুলগুলো ঝরে ঝরে পড়বে তুষার পাতের মতো। একদিন জীবনকে বিপন্ন করে অস্ত্রহাতে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে ফুলকে বাঁচিয়ে ছিলো মুক্তিসেনারা, সেই প্রানপ্রিয় সুবাসিত বিশ্বনন্দিত লাখো শহীদদের রক্ত¯œাত ফুলটি সত্যি কি আজ বেঁচে আছে তার স্বমহিমান্বিত সুবাস রুপ-রস নিয়ে? অক্ষত আছে কি ফুলের পাপড়িগুলো? হাজারো স্বপ্নার আব্রæ আর আহুতি প্রানের বোবা কান্নার মাঝে দলিত মথিত সেই ফুলের নিঃশব্দ কান্নার অনুরণন বাঁজছে রাগিণী ভৈরবীতে। এভাবে কতকাল স্বপ্ন মুকুলগুলো ঝরে যাবে অবেলায় পথের ধারে। যে পল্লীবালার দু’টি আঁখি পাতে ছিলো ভালোবাসার সীমাহীন স্বপ্ন। ছোট্ট হৃদয় মঞ্জিলে সজ্জিত ছিলো অনাগত দিনের রঙিন আয়োজন। সেই পল্লীবালা কী আত্মহুতী দিয়েছে? নাকি এই নষ্ট সমাজ তাকে হত্যা করেছে? অবলা স্বপ্না কি ধর্ষিত হয়েছে? নাকি ধর্ষিত হচ্ছে শহীদদের রক্ত¯œাত লাল জবা? এর উত্তর তোমাকেই খুঁজতে হবে ‘হে আমার প্রিয় স্বদেশ’!