জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের মেধাবী শিক্ষক কবি সুমনা গুপ্তার কবিতার সঙ্গে আমার পূর্বপরিচয় ছিল না। এবারের বইমেলায় প্রকাশিতব্য তার কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা পড়ে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। সুমান তার কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছেন-‘মায়াভরা আঙিনার পথ’। চমৎকার নাম। মানবজীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধনজাল হলো মায়া। মায়া জিনিসটা এতটাই প্রবল যে সে অপত্যস্নেহে বাৎসল্যে, প্রেমে-কামে- এমনকি শ্রদ্ধা ও ভক্তির মধ্যেও নিজেকে বিস্তৃত করে রাখে। বয়সবিশেষে মায়া তার রূপ ও প্রকৃতি বদলায়। মায়া যৌবনে প্রেম ও কামের সমার্থক হয়ে ওঠে। মায়াভরা আঙিনার পথ তো সর্বদা প্রেমের কুসুমে আবৃত থাকে না, কখনো কখনো তার পথের আঙিনা ভরে ওঠে বিরহবিষের পাথরে। প্রেমের আনন্দ ও বিরহবিষের বেদনা যুগপৎ ফুটে উঠেছে সুমনার কবিতায়। ‘তোমার মুখশ্রী, মায়াভরা আঙিনার পথ দিয়ে মিলেছে গোধূলির শেষ ক্ষয়িষ্ণু আভায়, সর্বত্র ধূপছায়া আঁধার। শুধু এই কথাটুকু হৃদয়ের গোধূলিবেলায় জ্বেলে রাখি- তুমি ছিলে, তবু তুম ছিলে।’ (হৃদয়ের ঘর) বাংলা কবিতায় অভিজ্ঞ পাঠক নিশ্চয়েই সুমনার কাব্যগন্থটি সানন্দে সাদরে সংগ্রহ করে পড়বেন। অগ্রে জন্মগ্রহণকারী কবি হিসেবে কবি সুমনা গুপ্তাকে আমি অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাই। -কবি নির্মলেন্দু গুন ৭ ফেব্রুয়ারি