এই বিশ্বচরাচর ছেয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বকালে সর্বযুগে প্রতিটি নারী—পুরুষের অন্তরের অন্তস্থলে সংগোপনে সযতনে লালন করে রাখা যে প্রিয় নামটি, যা সচেতন কিংবা অবচেতনভাবে, আকস্মিক বিপদ কিংবা দুর্ঘটনায় নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসে সে ডাক প্রিয় ‘মা’ ডাক। ভাষা ভেদে তা বিভিন্ন জাতির কাছে শুধু শব্দের ভিন্নতা আনতে পারে, কিন্তু মর্মার্থ এক ও অভিন্ন মা মা—ই। মর্মের সাথে যা নিবিড়ভাবে মিশে আছে। শারীরিক কোনো স্পন্দনের সাথে সাথেই মর্মস্থল থেকে সে বেরিয়ে আসে আপন মহিমা নিয়ে। আলোড়িত করে আমাদের অন্তরকে, অভিভূত হই প্রিয় নামের সাথে, চেতনার সাথে। যেখানে যাই যতদূরে যাই, ছায়ার মতো, কায়ার মতো আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখে। শৈশব থেকে আমৃত্যু আচ্ছন্ন করে রাখে প্রিয় মায়ের স্মৃতি। এমন কোনো পাষাণ হৃদয়, পাষাণ মানব—মানবী আছে কি যে মাকে, মায়ের ঋণ, মায়ের স্মৃতিকে অস্বীকার করতে পারে? পৃথিবীর যত ভাষায় যত শব্দ, যত বর্ণই থাকুক না কেন মা শব্দটির মতো এত ব্যঞ্জনাময়, এত আবেদনময়ী কোনো শব্দ আছে কি না আমার জানা নেই। তাই তো কবির কথায় ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু জেনো ভাই তাহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’