মৃদুমন্দ বাতাস এলে মন দুলে ওঠে। এই রোমাঞ্চকর সুর জীবনের শান্তিময় এক পৃথিবী রচনা করে। কবিতা সেই স্বপ্নের কাছে যেতে চায় যেখানে মন্ত্রমুগ্ধ কথা আছে, ভাষা আছে। ডা. জ্বলিয়া রহমানের কবিতা সেরকম ভাষার ইঙ্গিত করে। তিনি উপলব্ধিকে নিজের ভেতরে জারিত করতে পেরেছেন বলেই এমন সাবলীল ভাষা তুলে দিয়েছেন পাঠকের হৃদয়বৃত্তে। "ভুল কি তবে হয়েই গেল/পিছন ফিরে দেখতে গিয়ে?/বেশতো ছিলাম কাজের মাঝে/নিজের মতো শান্তভাবে।' নিভৃত থাকাই তো কবির স্বভাব। এভাবে সমস্ত মন-প্রাণ উজাড় করা এক প্রেমমন নিয়ে এই আদর্শ পদ্ধতি। শুধু উপমা নয়, অধীর আবেগ এই কবিতাগুলো হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছে। সবই একই রকম পথরেখা অবলম্বন করে কবিতার গহন বিশ্বে পদক্ষিণ করেছেন আরো একটি উপলব্ধি: 'আকাশ মানে শরৎকালের/ খেলা চলে মেঘ বাতাসের ঋতুবৈচিত্র্যের আগ্রহে জমা হয় নানারকম প্রান্তিক অনুভূতি। যেমন তেমন অনুভূতি, মনআবেশের অনুভূতি। অনুভূতির সময়জ্ঞানটা মুখ্য। কখন, কীভাবে চলে আসে। কবিতায় আনার সাহসটা কবির ক্যারিশমা। চলতে চলতে যাপিত জীবনের বারান্দায় বসে বসে এই সকল কবিতা পাঠকের দোর গোড়ায় আলোর টিপ পরাবে। তখন কবিতামুখী মানুষের কাছে স্নানবিলাস হয়ে দেখা দেয়। তেমনি কবিতার বই মেঘবালিকার কাহন।