চন্ডিকাপুর গ্রামের শিকদার বাড়ি আর শেখ বাড়ির মধ্যকার হৃদ্যতা বেশ পুরনো। পুরনো সম্পর্কের রেশ ধরেই গভীর প্রণয়ে বাধা পড়ে দুই বাড়ির ছেলে-মেয়ে আঁজলা এবং মেঘ। আত্মীয়তা পোক্ত করার নতুন ইস্যু তৈরি হয় দুই বাড়ির মধ্যে। অতঃপর পারিবারিক সিদ্ধান্তে আঁজলা আর মেঘের বিয়েও চূড়ান্ত হয়। কিন্তু বিয়ের কেনাকাটা করার দিনই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার ঝড় শুধু তছনছ করে দিয়েই যায় না, অদৃষ্টের কালোতে বেঁধে রেখে যায় আঁজলাকে। দুর্ঘটনার পর থেকেই ভীষণরকম পাল্টে যায় আঁজলা। পাল্টে যায় তার প্রেম, প্রিয়জন থেকে জীবনের সবটুকু। এই বদলে যাওয়া অচেনারূপী আঁজলা হঠাৎ একরাতে ভীষণরকম বিধ্বংসী হয়ে ধরা দেয় প্রিয়জনের সামনে। ঝড় রূপ নিয়ে নেয় কালবৈশাখীতে। কাহিনির এই পর্যায়ে সামনে আসে উপন্যাসের আরেক প্রধান চরিত্র কাজল। এরপর থেকে ঘটনা দ্রুত মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। কোথায় গিয়ে থামে নীলখামে আটকা পড়া তিন তিনটি সম্পর্ক? কী হয় তাদের পরিণতি? জীবনের কালোছায়া কি আদৌ পিছু ছাড়ে আঁজলার? নীল ভালোবাসা হাতে নিয়ে মেঘই বা কতক্ষণ কালচে রঙ ধারণ না করে থাকতে পারে? কাজলদের বাড়ির পুরনো জমিদার মহলে গভীর রাতে সাদা শাড়ি পরে কে ঘুরে বেড়ায়। প্রতিনিশিতে করুণ সুর তুলে কাকে ডেকে যায় সে? এমনই অসংখ্য প্রশ্নোত্তর আর উত্তেজনায় দোদুল্যমান উপন্যাস 'মেঘবন্দিনী'। রহস্যে বুঁদ হয়ে প্রশ্নোত্তরগুলি জানতে চাইলে পড়তে হবে মিনা শারমিনের লেখা অতিপ্রাকৃত রোমান্টিক ঘরানার এই মৌলিক উপন্যাসটি। তবে নির্ধারিত জনরায় না ফেলে উপন্যাসটিকে ট্রায়াঙ্গল রোমান্টিসিজম, সুপারন্যাচারাল এবং থ্রিলারের কম্বো বলাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে বলে মনে হয়েছে। 'মেঘবন্দিনী' হাতে কিছু সময় প্রেম-রহস্যের ভুবনে ডুব দিতে সবার আমন্ত্রণ রইল।