"মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ তিনি গল্প লিখেছেন তিরিশটির মতাে, এই সঙ্কলনে ঠাই পেয়েছে ১২টি। কখনাে সােহনপুর, ছায়াস্নাত যুবক, শিস-পীড়িত রাস্তা, কুত্তার পদদলিত শােক, সর্প-তাড়িত মানুষ, কখনও-বা ক্ষয়িষ্ণু বাড়ির অবয়বে গল্পের শরীর নির্মাণ করেন তিনি। ভাষার উপনিবেশমুক্ত জাদুময়তা আর সাঙ্কেতিক বিন্যাসে তিনি নবতর মাত্রার প্রয়াসী। জনমানসের লােকায়ত আবহ তাঁর ভাষায় মূর্ত হতে থাকে। ইমেজকে সরাসরি দেখেন এবং তা-ই হয়ত ভাঙচুরও করেন। প্রথাগত রুচি বা সাধ-আহ্লাদকে পাত্তা দেন বলে মনে হয় না। মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্রীয় বিরূপ আচরণ, মুক্তিযুদ্ধের বহুবাক, সরবনীরব জলপাই শাসন, ধর্মীয় নির্মমতা, এনজিও’র মহাজনি কর্মকাণ্ড ইত্যাদির শব্দচিত্র তিনি এই গ্রন্থে এঁকেছেন। সময় ক্রমাগত এক দুঃসহ পেষণে ডুবে যাচ্ছে। অনেক মানুষ ক্রমাগত এক রক্তাক্ত যন্ত্রণায় হচ্ছে পীড়িত। এমনই এক মানব-সৃষ্ট অসহায়তায় মানুষের সামগ্রিক সৌন্দর্য আঁকার তাড়নায় তিনি গল্প নির্মাণ করেন।