
“মু’আল্লিমুস সুন্নাহ” গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি হাতে নিয়ে আমি হারামাইন শরীফাইনের সফরে বের হয়েছিলাম। মক্কা মুকাররামায় পাণ্ডুলিপিটি কা’বা শরীফের গিলাফ ছুঁইয়ে দিয়ে আল্লাহর দরবারে দু’আ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
অপরদিকে, নবীজির রওযা মুবারক ও মিম্বারের মাঝখানে অবস্থিত সেই জান্নাতের টুকরো-রিয়াযুল জান্নাহ। সেখানে দুই রাকাত নামায সমাপ্ত করে দীর্ঘ সিজদায় ডুবে যাই। অশ্রুসিক্ত সেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রাণভরে দু’আ করি, দু’আ পরবর্তী পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ ধীরে ধীরে পাঠ করার সুযোগ হয়।
রওযা শরীফের যিয়ারত শেষে বের হওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ নিরাপত্তা বাহিনী আমাকে ঘিরে ফেলে। আমার সফরসঙ্গী এই আকস্মিক ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ছিলাম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রশান্ত। পুলিশ সদস্যরা পাণ্ডুলিপির কয়েকটি পৃষ্ঠা ছবি তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন। মোবাইল ও ল্যান্ডফোনে তারা বারবার যোগাযোগ করেন।
অবশেষে অনুমতি আসে সম্মান ও সৌজন্যের সঙ্গে তারা আমাকে বিদায় দেন।
রওযা মুবারকের সন্নিকটে এমন এক অবস্থা ঘটার পর, অন্তরে এক গভীর প্রশান্তি অনুভব করি যেন এই খিদমত এক অদৃশ্য বরকতে আবৃত হয়ে গেছে। অনুভব করি, মদিনা ওয়ালার নজর এই কাজের উপর পড়েছে।
লেখক: মুফতি মুহাম্মদ কিফায়াতুল্লাহ শফিক
প্রকাশক: চারু সাহিত্যাঙ্গন