ফ্ল্যাপঃ অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর কাউসার হায়দারের দেওয়া নোটবুকটা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে সিনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল হুদা। লাশটা যেভাবে মেঝেতে পড়েছিল, এর খুটিনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এতে লিখা আছে। অর্থাৎ কাউসারের হাতের লেখা পড়লে পুরো ঘটনাটা চোখের সামনে ছবির মতো ভেসে ওঠে। সে এতটাই গুছিয়ে লেখার মানুষ যে, স্বচক্ষে কোনো ঘটনা না দেখলেও আয়নার মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠবে পুরো ঘটনা। মাঝে মাঝে নাজমুল হুদা মুখ ফসকে বলেই ফেলেন, "কাউসার সাহেব, পুলিশের চাকুরি আপনার জন্য নয়। আপনাকে দেখে পুলিশ পুলিশ মনে হয় না। মনে হয় আপনি একজন দেশের জনপ্রিয় লেখক, জনপ্রিয়তায় ভরপুর। দেশ জুড়ে তরুণ-তরুণীদের মাথায় শুধু একটাই নাম, কথা সাহিত্যিক কাউসার হায়দার। কিন্তু সাহিত্যিক সাহেব, লেখায় একটু মিসটেক আছে।" নাজমুল সাহেবের কথা শুনে কাওসার হায়দার চমকে ওঠে বলে, "জি স্যার!" এতক্ষণ ধরে কাওসার হায়দার সিনিয়র অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল হুদার প্রসংশা শুনে হাওয়ায় ভাসছিল। গর্বে বুকের ছাতি যেন চার থেকে ছয় ইঞ্চি চওড়া হয়েছিল এতক্ষণে। নাজমুল সাহেবের কথা শুনে তার বুকের চওড়া ছাতি মুহূর্তে বায়ু ছাড়া বেলুনের মতো চুপসে গেল।