মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ছিলেন একজন আপদমস্তক দেশপ্রেমিক, পরোপকারী, সদালাপী, লেখক ও সততার উজ্জল প্রতীক। বাল্যকালে অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে উঠা একজন আদর্শ মানুষ। তিনি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। কর্মক্ষেত্রে তার সততা, নিষ্ঠা, নেতৃত্ব অনুসরণীয়। কর্মজীবনে ব্যস্ততার মাঝেও তিনি দেশের সমসাময়িক বিষয়বস্তুর উপর লেখালেখি করতেন। কিন্তু সেটা ছিল নিতান্তই শখের। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সামরিক সরকার তাঁকে "বিশেষ নিরাপত্তা আইনে" কোনরূপ অভিযোগ ছাড়া জেলে বন্দি করেন ও প্রায় তিন বছর বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন কক্ষে থেকেও তিনি তাঁর মনের আবেগ ও গভীরতা থেকে অসংখ্য বিষয়ের উপর লেখালেখি করেন। প্রকাশিত লেখাগুলির সিংহভাগই নির্জন করা প্রকোষ্ঠে থাকাকালীন লেখা-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও তার রচিত দেশাত্মবোধের নিরিখে খুবই অমূল্য সম্পদ। লেখাগুলি প্রকাশের জন্য প্রয়াতের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার মানিক কে.ভট্টাচার্য্য বহু বছর নানাবিধ প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও তিনি তার পিতার অপ্রকাশিত বই "মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র ভট্টাচার্য্য: দেশাত্মবোধক ও আধ্যাত্মিক রচনাবলি" অবশেষে সুচারুরূপে সম্পাদন করেন।