‘১৯ মে, ১৯৭১। আমি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছি। সকাল আনুমানিক ৭ টায় হঠাৎ রাইফেলের গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। একটু পর পর গুলি। জানতে পারলাম, হানাদার বাহিনী নির্বিচারে লোকজন হত্যা করছে। বাড়িঘর ছেড়ে আমরা সবাই বাড়ির উত্তর দিকে জঙ্গলে আশ্রয় নিলাম। কিন্তু গুলির শব্দ পশ্চিমে সরে গেল। আধঘন্টার মধ্যেই গুলির শব্দ থেমে গেল। গ্রামে তখনও থমথমে ভাব। ঘন্টাতিনেক পর বেরিয়ে এসে দক্ষিন দিকে যত এগুচ্ছি ততই বিলাপ শুনতে পেলাম। তারপর যে দৃশ্য দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা কষ্টকর। শুধু মৃত্যুর মিছিল। গুঠিয়া খেয়াঘাট থেকে গান বোট থেকে উঠে হানাদার বাহিনী তিনভাগে ভাগ হয়ে যাকে যে অবস্থায় পেয়েছে গুলি করে মেরে ফেলেছে। বৃদ্ধা, যুবক, স্ত্রী পুরুষ কেউ বাদ যায় নি। পরে শুনতে পেলাম, প্রায় এক হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে। একদিনে এত কবর খোড়া ভাবা যায় নাকি? তথনই শপথ নিলাম, এভাবে মরবো না। যুদ্ধে যাবো।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুর রহমান খানের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মরনীয় ঘটনাবলী নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও আমি’র প্রেক্ষাপট।