আমরা স্বপ্ন দেখি, আর কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন ও দেখান জীবনের নিয়ত সংগ্রাম ও তার সাফল্যের ভাষায়। স্বপ্নের বাস্তব রূপ ভাবনার সুস্থ চৈতন্যে বাহিত হয়ে বিচ্ছুরিত হয় তাদের জীবন ও কর্মে। তেমনই এক সৌন্দর্য নিয়ে দিনাতিপাত করেন পুলক কান্তি বড়ুয়া। তিনি এক অনন্য স্বাপ্নিক, আশৈশব যাপিত জীবনে লালন করে এসেছেন জননী-জন্মভূমি-ভাষা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সুষমা। পারিবারিক আবহেই ছিল এক সংস্কৃতিচর্চার নির্মল পরিবেশ। ফলে, নিজেকে নির্মাণ করেছেন রবীন্দ্র-নজরুল জীবনানন্দ-শরৎ-বঙ্কিম-লালনের ভাবের মিশ্রণে। স্কুল-বিতর্ক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়-বিতর্ক হোক স্রোতাকে আবিষ্ট রেখেছেন ক্ষুরধার যুক্তির মুগ্ধতায় বাগ্মীতার এ গুণ আজও তার মাঝে তীব্রভাবে বিদ্যমান। আর ভরাট কণ্ঠের কবিতাপাঠ শুনলে মনেই হবে না লোকটি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল-প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার । ছাত্র জীবনে বাউন্ডুলে এই লোকটিই ছিলেন ডুয়েট নামকরণ আন্দোলনের প্রধান কণ্ঠ- যার সংস্কৃতিচেতনার শক্তিতে ঋদ্ধ নেতৃত্ব এনে দিয়েছিল সাফল্য । শত ব্যস্ততার মধ্যেও মুঠোভরা ভাবনা আর তিনি মুঠোবন্দি রাখেননি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সবার জন্য। একজন পেশাজীবীর এমন সৃজনশীল কর্মপ্রচেষ্টা নিশ্চয়ই এই বদ্ধ সমাজে শুভ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।