অনেকের মতে, নারী ও নীরের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। নারী ও নীর কাব্যগ্রন্থের নারী ও নীর কবিতায় তেমনি একটি সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কান্নার প্রতি নারীর অধিকতর ঝোঁক ও কান্নার লোনা জলকে এ কবিতায় পৃথিবীর ৯৮ শতাংশ সামুদ্রিক জলের সাথে তুলনা করা হয়েছে। লোনা জলে যেমন ফসল ফলে না তেমনি নারীর অশ্রুতেও কারোর কিছু এসে যায় না। নীর তথা জলের মতো নারীর জীবনেও তিন ধরনের অবস্থা বিরাজ করে- স্বাভাবিক তাপে নারী নীরের মতো তরল, উষ্ণতা বিহনে নারী বরফসম কঠিন ও অতি তাপে নারী বায়বীয় রূপ পরিগ্রহ করে। তাছাড়া, কাব্যগ্রন্থটিতে প্রেমিক প্রেমিকার প্রেমসুখ ও বিরহবেদনা, সাধারণ জনগণের জীবনের আনন্দ-বেদনা হতাশা ও বঞ্চনার গল্পের পাশাপাশি এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে অন্ধ মানবজাতির যে কোনো মূল্যে নিজে সুখে থাকার প্রাণান্তকর অপচেষ্টা ও স্রষ্টা তথা পরকালকে ভুলে যাওয়া ও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সংক্রান্ত আধ্যাত্নিক বিষয়গুলোকে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই, মূলতঃ ছান্দসিক ও গীতি কবিতার এ বইটি সকল শ্রেণির পাঠকের মনের খোরাক যোগাতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করি।