সময়কাল বা আর্থসামাজিক অবস্থা যাই হোক না কেন, সমাজে মেয়েদের জীবন, যন্ত্রনা, ভোগান্তি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিভিন্ন রূপে এক হয়েই ধরা দিয়েছে। অনেক আগের দিনের মেয়েরাও যেমন পুরুষশাসিত সমাজের বেড়াজালে আটকে অসময়ে বিদায় নিয়েছে, তেমনি বর্তমান যুগের মেয়েরাও অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নিজ পরিবারের দ্বারা অবমূল্যায়ন এবং বঞ্চনার স্বীকার হয়ে বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। মেধা, স্বচ্ছলতা ও সাহস থাকার পরেও অনেক সম্ভাবনাময় মেয়ে সঠিক গতিপথ থেকে হারিয়ে যায়, আলো ছড়াতে ব্যর্থ হয় শুধুমাত্র পরিবারের সহযোগিতার অভাবে। এর মাঝেও যারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে যায়, তারা সমাজে নিজ গুণেই আলো ছড়ায়। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র নিচতারা, বেশ দরিদ্র পরিবারের মেয়ে যে কিনা বিচারবুদ্ধি ও স্বাভাবিকতা থাকার পরেও নিজ জীবন ধ্বংসের পথ বেছে নেয় নিজের মায়ের চরম অসহযোগিতার কারণে অন্যদিকে আর একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র লাবণ্য, বুদ্ধিমান ও সম্ভাবনাময় হওয়ার পরেও পরিবারের অতিরিক্ত শাসন ও সন্দেহের কারণে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। অথচ বেগম আম্মা আগেরদিনের মানবী হয়েও বেশ বলিষ্ঠ এবং আখতারুন্নেচ্ছা যথেষ্ট যুক্তিবাদী ও স্বপ্রতিভ। আদতে সমাজে একটা মেয়ে যতই সম্ভাবনাময় হোক না কেন, নিজ পরিবার থেকে সহযোগিতা না পেলে এই কন্টকাকীর্ণ বন্ধুর সমাজে খুব একটা আগাতে পারে না। নিচতারা উপন্যাসটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন গুণী প্রচ্ছদ শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগর এবং বই আকারে প্রকাশ করছে কণ্ঠস্বর প্রকাশনী।