আমার হাজারাে স্মৃতি। এখানে ডুব দিয়ে আমি অতীতের ঘ্রাণ নিই। দুঃস্বপ্নের বেদীমূল ছুঁয়ে দেখি আর হারিয়ে যাওয়া সুখস্বপ্নগুলােকে খুঁজে ফিরি। মাঝে মাঝে অবশ্য লুইয়ের সাথে গল্প করার চেষ্টা করি। কিন্তু ওর সাথে ঠিক জমে ওঠে না। ও আকারে ইংগিতে আমার কাছে জানতে চায় আমি বারবার এখানে কেন আসি। ওর প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। নানা স্বপ্নের দোলাচালে ক’দিন কাটিয়ে আমাকে আবার ফিরতে হয় বাংলাদেশের মাটিতে। রেস্টহাউজে ফিরতেই লুই আমাকে চা এনে দেয়। বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে রাত দশটা বাজানাে আমার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজও এর ব্যতিক্রম হলাে না। বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসতেই মিস্টার রবির কথা মনে পড়লাে। জনশূন্য বৌদ্ধমঠে কোন বাঙালির সাথে পরিচয় কাকতালীয়-ই বটে। তবে দ্রলােক যে আমাকে জ্বালিয়ে মারবে সেটা তার হাবভাবেই বুঝতে পেরেছি। হয়তাে আগামীকাল সকালে এসেই হাজির হবে। তিনি একগাল হেসে বললেন, কেমন আছেন? আপনাকে বিরক্ত করতে চলে এলাম। - না, না, বিরক্ত হওয়ার কি আছে। আমি তাে আপনাকে সাহায্য করতে চেয়েছি।