বই এর প্রথম ফ্লাপ উনিশ শতকে বাংলার সমাজকে নিয়ে লেখালেখি করা খুব ঝুঁকির ব্যাপার ছিল। রক্ষণশীল সমাজ ভয় দেখায় আর ইংরেজের জুজু তো ছিলই। ফলে লেখকেরা ছদ্মনামের আড়াল নিতেন। নীল-দর্পণ নাটকটি লেখা হয়েছিল ‘কস্যচিৎ পথিকস্য' নামে। পরে দীনবন্ধু মিত্রের নাম জানা গেল। ব্রিটিশদের হাজারো ছলা-কলার মধ্যে মধ্য-উনিশ শতকে চাষীদের ধানচাষ থেকে হটিয়ে দিয়ে ধেনো জমিতে নীলচাষ করিয়ে তাদের সঞ্চয় বাড়তে লাগল। আরও সঞ্চয়ের লোভে অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে লাগল। নির্ধন শূন্য হলেন, ধনীরাও আত্মহত্যা করতে লাগলেন। চাষী পরিবারের মেয়েদের ইজ্জত রইল না। এই লোভ এবং পীড়নের একেবারে ফোটোগ্রাফিক ছবি মায় সেকালের ভাষা যেন একটা সবাক চিত্র। নীল-দর্পণে সাহেবেরা তাদের মুখ দেখতে পেয়েছিল কিনা জানিনা। কিন্তু গোটা সমাজটা তাতে উঠেছিল। সেই ছবিটাকেই মুছে পষ্ট পরিষ্কার করে একালের পাঠকের কাছে উজ্জ্বল করে দিয়েছেন বইটির সম্পাদক। ফলে বাজারি নীল-দর্পণ এখানে ‘কাজের-ই’ নীল-দর্পণ হয়ে উঠেছে। যাঁরা নতুন পড়ছেন—তাঁরা এখানে একেবারে মগ্ন হয়ে যেতে পারবেন।