ব্যক্তি-সমাজ-স্থান কালকে ঘিরেই কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। এ জীবনে চোখের দেখায়, পথের রেখায়, ঘাসে ও ফুলে, প্রাপ্তি ও ভুলে, রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলমান ব্যস্ততায় নিজের ভেতর ভাঙা গড়ায় যে ভাবনাগুলো যুক্ত হয় সেগুলো মুক্তি পায় কবিতায়। কবিতা তো কবির অনুভ‚তির বহিঃপ্রকাশ। কবির চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের মোড়ক উন্মোচিত হয় কবিতায়। কবিতায় আমিও খুঁজে নিয়েছি এক জীবনের পূর্ণতা--হয়তো তারই আবহ অনুরণিত হয়েছে এ কাব্যগ্রন্থে। যে জীবন লালন করি, ধারণ করি, যে বিশ্বাস বহন করি--সেখানে প্রেম, দ্রোহ, প্রতিবাদ, মানুষ, মানবতার জয়গান বিদ্যমান। আমার কবিতা ‘স্বরচিত অন্ধকার’ এ দিয়েছে ‘দুঃসময়ের চিৎকার’। ‘হৃদয়ের জানালা খুলে’ দিয়েছি ‘স্মৃতিহীন অচিন আঁধার’-এ। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয়েছে ‘আর যদি একটা গুলি চলে’। ‘কবিতার চেকবই’য়ে লিখে দিয়েছি আত্মমোচনের দৃপ্ত অঙ্গীকার। ধার করা জীবনে গ্রহণে বর্জনে যেটুকু অর্জন গিঁথে রেখেছি স্মৃতির সেলাই-এ। প্রতিদিন নিজেকে ভেঙে দেখার চেষ্টা করি জীবনের আয়নায়, মাটির শ্লেটে আঁকি মানুষের মানচিত্র। কবিতার পথে, আলোর পথে, সম্প্রীতির পথে, মানবতার পথে, বিশুদ্ধতার পথে, প্রগতির পথে, সাম্যের পথে, অসাম্প্রদায়িকতার পথে নিত্য আনাগোনা। আমি ক্রমাগত ছুটছি, পূর্বে পশ্চিমে, উত্তরে দক্ষিণে, গানে ও প্রাণে, জলে ও জালে--মানবিক শুদ্ধতায়।