রাখালদাসের বউয়ের দু’দিন ধরে ব্যথাটা উঠেছে। হয়তো তারই ছেলে কিংবা মেয়ে হলো। রাখালদাস আজ চারদিন বাড়ি নেই। মাঝিদের নিয়ে নদীতে গেছে। আজও ফিরতে পারে নি। এই দু’দিন বউটা বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে ব্যথা পাহারা দিয়ে আজ ভোর রাতে ঝড় থামার সাথে সাথে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। তারও একদিন পরে পৌনে দুপুরের সময় রাখালদাস বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফিরেই সে নকুল ডাক্তারেরর কাছে যায়। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পথে রাখালদাসের মনের ভেতর একটি প্রশ্ন কেবলই ঘুরপাক খেতে থাকে, যে-শিশু জন্মেই বুকের ব্যথা সঞ্চয় ক’রে ফেলল সে কী ক’রে ঝড় বাদলের রাতে নদীতে মাছ ধরবে? নকুল ডাক্তারের কাছ থেকে ছেলের জন্যে এক পয়সার কর্পুর এবং বিনে পয়সার একটি নাম সংগ্রহ ক’রে দ্রুত ফিরে আসে রাখালদাস। ডাক্তারের নির্দেশ, সর্ষের তেলের সাথে কর্পুর মিশিয়ে কুসুম গরম ক’রে বুকে মালিশ করতে হবে।