"নভেরা বিভুঁইয়ে স্বভূমে" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ বাঙালি মনীষার আত্মসচেতন ও আত্মজাগৃতির সময় ছিল ৫০-এর দশক। বাঙালির ছিল নিজস্ব কীর্তিময় ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য। জয়নুলের রােপিত শিল্পতরু ছায়ায় ওই দশকের মাঝামাঝি পূর্ব ও পশ্চিমের যুগল ঐতিহ্যের সংশ্লেষে সাযুজ্যে উর্বর হয়েছিল শিল্পভুবন। সৃজন ও সংস্কৃতির এই চঞ্চল পরিবহে ভাস্কর্যে নভেরা ছিলেন সম্ভ্রম জাগানিয়া পথিকৃৎ। প্রথম আবির্ভাবেই শিল্পনির্মাণের অনন্তবিস্তারে নভেরা বাংলার জল-মাটি, লােকজীবনের মন্ত্রময়তাকে ছুঁয়ে দিলেন। বােধের উষ্ণতায়, ঐতিহ্যের অনুরণনময়তায়। তিনি একাই নিঃশব্দে তৈরি করলেন এদেশে আধুনিক ভাস্কর্যের পাণ্ডুলিপি। তারই চিন্তাপুষ্ট স্থাপত্য প্রতীপ আমাদের জাতীয় শহীদ মিনার। অসাম্প্রদায়িক উদার চেতনার মিনারের স্থপতি তিনি। নিজেকে পদক, তকমা, উপাধির কাঙাল ভাবতে পারেন নি কোনােদিন। কিন্তু তাঁর কীর্তিকে ভুলে থাকতে চেয়েছেন, স্বীকার করতে কুণ্ঠাবােধ করেছেন। তারই কালের এদেশের শিল্পীরা। ভুলে থাকতে চেয়েছে রাষ্ট্রও। এক ব্যাখ্যাতীত বােধে তরুণ বয়স থেকে প্রবীণপর্ব অবধি জীবন কাটালেন বির্ভুই ফ্রান্সে।