ফ্ল্যাপে লিখা কথা জীবনের অতল ছুঁয়ে যাওয়া, মর্মমূল নাড়িয়ে যাওয়া, নশ্বর-অবিনশ্বরের সংশয় -বিশ্বাসে তাঁর কাব্য ‘নদী ও নায়রি’ জীবন দর্শনের নানা অনুষঙ্গের টুকরো নিয়ে রূপায়িত। কামরুল আলম সিদ্দিকী কাব্যের নামে শাব্দিক ক্যারিক্যাচার কিংবা মেদবহুল রূপের স্থুল ঝলকানি পরিহার করে যথার্থ কাব্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রায় সবগুলো কবিতাই নির্মেদ পেলবতা আর সুবচনিক সৌন্দর্যের মিশেলে পেয়েঠে রাসায়নিক যোগ্যতা। উপমা রূপক চিত্রকল্পের ব্যবহার একদিকে কবিতাগুলোকে যেমন করেছে সুখপাঠ্য তেমনি আরেক দিকে করেছে শিল্প আর জীবন অভিন্ন। এক্ষেত্রে তাঁর কবিতার একটুকরো তুলে ধরে এর সত্যাসত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। যেমন-‘বসন্তের ফুলে ভুলে যায় ভ্রমরেরা গুন্ গুন্ /কিশোরীর কেশে চুমু দেয় ভুলে বেহুদা ফড়িং/ ফড়িং ভ্রমরের চুমুতে যুবতিরা হয় খুন।’ ‘নদী ও নায়রি’ কারুলের কাব্যচেতানার নতুন ডাইমেনশন। কাব্যগ্রন্থটি বহুমুখী আবেদনের সঞ্জিবনী সুধা নিয়ে সমৃদ্ধ। ফলশ্রুতিতে কাব্যরসিক পাঠকমাত্রই উদ্দীপ্ত হবেন, সন্দেহ নেই। আসাদ উল্লাহ