‘পৌরাণিক ব্যঞ্জনা’ শব্দদ্বয় দুর্বোধ্য মনে হচ্ছে? একটু সহজ করে দিই— পুরাণ বা প্রাচীন লোককথা থেকে নেওয়া প্রতীকী চরিত্র বা ঘটনার মাধ্যমে কোনো গভীর, অন্তর্নিহিত বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করাকে পৌরাণিক ব্যঞ্জনা বলে। অর্থাৎ, মূল আখ্যানের প্রচলিত অর্থের বাইরে গিয়ে নতুন তাৎপর্য সৃষ্টি করা। যেমন, কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখায় পৌরাণিক অনুষঙ্গ ব্যবহার করে বিশেষ ব্যঞ্জনা তৈরি করতেন। এর মানে হলো, পৌরাণিক চরিত্রগুলো কেবল নিজেদের গল্পে আবদ্ধ না থেকে সমসাময়িক বাস্তবতার রূপক হয়ে ওঠে এবং সর্বজনীন থিম তুলে ধরে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর উপাদান হলো পুরাণ ও মিথের ব্যবহার, যা শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয়, সমগ্র বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর সাহিত্য, কবিতা ও গানে প্রচুর পৌরাণিক অনুষঙ্গ ও মিথের প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। ‘নজরুলের কবিতা ও গানে পৌরাণিক ব্যঞ্জনা’ বইটিতে সেই পৌরাণিক শব্দের প্রেক্ষাপট ও কাহিনি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, বাংলা সাহিত্য তথা কবিতা ও গানে পুরাণ, মিথ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর লেখা গান ও কবিতায় এই পৌরাণিক, মিথ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ নতুনভাবে রূপ পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন পুরাণের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কবিতা ও গানে স্থাপন করেছেন। বলা যেতে পারে, পৌরাণিক অনুষঙ্গ ও মিথের ব্যবহার তাঁর কবিতা ও গানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা ও গানে ব্যবহৃত মিথলজিক্যাল শব্দের প্রেক্ষাপটই এই বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয়। তিনি মুসলিম, হিন্দু, গ্রিক, ফরাসি ও মধ্যপ্রাচ্যীয় মিথকে অনন্য রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন।