নন্দনতত্ত্বের চর্চা যারা করেন তাদের অনেকেরই ভেতরের অন্ধকার উন্মোচিত হয়েছে এই গ্রন্থে। হিংসায় উন্মত্ত হয়ে একজন মেধাবী অধ্যাপক কবি দেশের একজন প্রধান কবিকে আক্রমণ করে কবিতা লেখেন, একুশে পদক পাওয়া লেখকের আর্থিক প্রতারণা, লেখা ছাপানোর জন্য পত্রিকার সম্পাদকদের উৎকোচ প্রদান, অন্যের কবিতা চুরি করা, মধ্যস্বত্ব-ভোগী সাহিত্যের দালাল-চক্রের আস্ফালনসহ বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যাঙ্গনের অনেক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সাহসের সঙ্গে তুলে এনেছেন লেখক। শিল্প-সংশ্লিষ্টদের রঙিন মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুখটি কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা লেখক উন্মোচন করেছেন তার স্বভাবসুলভ নান্দনিক ও কাব্যিক গদ্যের বয়ানে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ, শিল্পী এস এম সুলতান, রফিক আজাদ প্রমুখের শিল্প-সাহিত্য ও ব্যক্তিচিন্তার দর্শন প্রস্ফুটিত হয়েছে বেশকিছু গভীর, তাৎপর্যপূর্ণ ও সুখপাঠ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আগ্রহীদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য গদ্যগ্রন্থ ‘নন্দনতত্ত্বের ডার্করুম’।