বিধান সাহা কবিতা লিখেন না মায়া আঁকেন? 'অবিরাম বিস্মরণ' পড়তে পড়তে গদ্য লেখা একেবারে ছেড়ে দেওয়া আমি যেমন এই দু-চার লাইন গদ্য লিখতে বাধ্য হলাম; তেমনি, ও পাঠক, আপনিও বিধানের কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনের খাতায় নিজস্ব কিছু নোট নেবেন—এটা আমার মনে হয়। কারণ বিধান এমন মায়ারঙে তার বিস্মরণনামা সাজিয়েছেন যে সোনার কাঠি, রুপার কাঠিও যেন রূপকথার ল্যান্ডস্কেপ ছেড়ে এখানে এসে ভিড় করেছে। একপাঠে বোধ হবে, 'অবিরাম বিস্মরণ'-এর এক কবিতা থেকে আর এক কবিতার ভেতর কোনো দূরত্ব নেই, এক অখণ্ড কাব্যগাথা যেনবা। আবার অন্যপাঠে মনে হবে, এক একটা কবিতা এক একটি আলাদা মহাবিশ্ব। অবিরাম বিস্মরণের কথা বিধানের বইয়ের শিরোনামে উৎকীর্ণ হলেও বিধানের অতল অনুভবের অক্ষরে ভূমিষ্ঠ জাদুর জঙ্গল আর মায়ামালঞ্চ এমনকি বিস্মৃতিকেও বিস্মৃত হতে দেবে না হয়তো। পূজার ঢাকের কাছে ওই যে মায়ের চিরবহ্নিমান চিতার চিত্র আঁকেন কবি বিধান সাহা; কোন কায়েমি বিস্মরণের সাধ্য আছে, বিধানের এমন সব কবিতাকে আমাদের পাঠস্মৃতি থেকে একবিন্দু লোপাট করে? পিয়াস মজিদ