গোলাপ শাহ মাজারের সামনে সড়কদ্বীপে বসে আছে রঞ্জু। হাজারো গাড়ি দুই পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। গোলাপ শাহ মাজারের দেউড়িতে বসে এক মধ্যবয়সি নারী। লম্বা লাঠি হাতে, কেউ দেউড়িতে জুতা রেখে কবরের কাছে গেলে লাঠি দিয়ে জুতা সামলে রাখছেন। বের হওয়ার সময় হাতে আজমির শরিফের রঙিন সুতা বেঁধে দিলেই দশ টাকা। টাকা হাতে নিয়ে ব্লাউজের উপরের অংশে এমনভাবে রাখছেন, যে তার দশাসই বুকের অংশ বিশেষ দেখা যাচ্ছে। কাজটি তিনি সচেতনভাবে আর যত্নের সঙ্গেই করছেন বলে মনে হচ্ছে। আশপাশের যত পাগল তার ভক্ত যে কী কারণে তা বোঝা সহজ। এর মধ্যে মাজারের খাদেম টাইপের একজন এসে সবাইকে সরিয়ে দিলেন। নিজের কাঁধের গামছা দিয়ে ফ্লোর ঝাড় দিলেন। তবে দেউড়ির নারীকে তিনি কিছু বললেন না। লোকটি কিছুক্ষণ পর হাঁক ছাড়লেন, নিলা চল চা খাই। পাগলিও সুর সুর করে লোকটির পিছু নিল। তারা দুজন চলে গেল পশ্চিম পাশের রাস্তা পার হয়ে। দুপুরে বাসায় ফেরার কথা। তা না করে হন্টনে বের হয়েছে রঞ্জু। একটা নতুন পত্রিকায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করে রঞ্জু, দুপুরে অফিস থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে এখানে চলে এসেছে। কেন এসেছে জানে না। ব্যাগে নাইকনের একটা প্রফেশনাল ক্যামেরা আছে। মডেল ডি—৬০। সঙ্গে একটা বাড়তি ১৮—২০০ লেন্সও আছে। প্রতিদিন না হলেও সময় পেলেই রঞ্জু লোক সমাগমে চলে যায়। আজকে যেমন এসেছে গোলাপ শাহ মাজারে। পাশে বসা এক ভবঘুরে।