স্বপ্ন খুঁড়ে খুঁড়ে প্রকৃতির নির্যাস থেকে নেয়া আবির মাখিয়ে শব্দের পিরামিড বানাতে পারেন একমাত্র কবিরাই। কেননা তাঁদের তৃতীয় নয়ন সর্বদা প্রকৃতি ও মানবজীবন থেকে যা দেখে, যা উপলব্ধি করে এবং নিজের মধ্যে কঠিন সত্যাসত্য যেভাবে ধারণ করে, তারই সুনিপুণ গাঁথুনির ওপর অঙ্কুরিত হয় কবিতার বীজ। ‘অনুভূতিমালা’ কাব্যগ্রন্থে তাসলিমা আহমেদ জামান লিখেছেন ১১১টি কবিতা। আর এসব কবিতায় সামগ্রিকভাবে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য, সমাজের নানা অনিয়ম, পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের অবস্থান, দায়িত্ববোধ, প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, করোনাকালীন বিশে^ সামাজিক দূরত্ব, মৃত্যুর মিছিল, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মাঝে জীবনযাপন এবং সর্বোপরি প্রকৃতির লীলাখেলার সাথে মানবজীবনের যে অবিচ্ছেদ্য রকমের মিল, সেসবই ফুটে উঠেছে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরে প্রতিফলিত ভোরের স্নিগ্ধ-পবিত্র আলোর মতন। লেখকের মনের অনুভূতি থেকেই কবিতাগুলো প্রস্ফুটিত হয়েছে। একেকটি কবিতা হয়ে উঠেছে সময়ের সাক্ষী, কালের ইতিহাস, এমনকি সময়টাকে তিনি ধরতে চেয়েছেন কারুকার্যময় চিত্রপটের ফ্রেমে। কেননা প্রত্যেক লেখকই চান পাঠকদের মাঝে তাঁর কাজের গ্রহণযোগ্যতা আর স্বীকৃতি। আমরা আশা করি, কবি সেটা করতে পেরেছেন; এবং সফলভাবেই।