বাঙালির সব পুজোয় যে বইটি প্রয়োজন সেই ‘পুরোহিত দর্পণ’ রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতিতীর্থ যখন একের পর এক পূজা-পদ্ধতি সংযোজিত করছেন তাঁর পুস্তকে তখন তাঁরই ভাইয়ের ছেলে কবি সুকান্তর কলম প্রসব করছে, “ বিপ্লব স্পন্দিত বুকে…”-র মতো পঙ্ক্তি। যজমানি যাঁদের জীবিকা এমন এক বামপন্থী পরিবারে জন্ম নিয়ে টম্বুর কিন্তু টের পায়, পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবর্তনের পথে চলার হাজারও সমস্যা। তবু সে প্রশ্ন তোলে, বিপ্লব কেবল কারখানার মজুরের জন্যই হবে কেন? মাঘ মাসের ভোর চারটেয় গায়ে জল ঢেলে মঙ্গলারতি করা পূজা-মজুরের কথা বলবে না কেউ? বুকের উপর কালী-নামানো আভা ভট্টাচার্য, একনিষ্ঠ পূজারী অজেয় ভট্টাচার্য, ভাগ্যতাড়িত জন্মেজয় ভট্টাচার্য কিংবা ভালবেসেও দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া তমালী দাশগুপ্ত অথবা ইলোরা, ব্যক্ত কিংবা অব্যক্ত ক্ষত নিয়ে প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত আয়নার মতো পাঠকের সামনে এসে দাঁড়ায় এই অনুপম আখ্যানে। আর সেই ক্ষত যখন প্রেমের স্পর্শ পায় তখনই পবিত্রতায় উত্তীর্ণ হয় প্রতিদিনের বেঁচে থাকা। বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদ্যন্ত কৌতূহলকর টানটান উপন্যাসে পবিত্রতা আসলে প্রেমের নতুন নাম।