কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের মহানিষ্ক্রমণের পর শূন্যপৃষ্ঠ ঘোড়া কন্থক আর শূন্য হৃদয় সারথি ছন্দক পাশাপাশি বেঁচে ছিল এতকাল। বুদ্ধপূর্ণিমার রাতে ঘোড়াটি নিরুদ্দেশে গেল সারথিকে ফেলে। সারথি সেই ঘোড়াকে খুঁজতে খুঁজতে চলে যায় কিংবদন্তির জাহাজঘাটা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে, সেখান থেকে সুবর্ণরেখা আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে জেগে ওঠা চরভূমিতে, যেখানে পলাতক ঘোড়ারা যায় স্বপ্নতাড়িত হয়ে। শূন্যপৃষ্ঠ সেই অশ^ যেন অশ^মেধের ঘোড়া, তাকে অনুসরণ করছে নিঃশব্দ হত্যাকারী, নিশ্চুপে। নিরুদ্দিষ্ট সেই ঘোড়া অতিক্রম করে ভারতবর্ষ, তেজস্ক্রিয় বাতাসে ঢাকা মরুপ্রান্তর, নদীতীর, অরণ্য, পাহাড়। অশ^চরিত সেই বিরল গোত্রের ধ্রুপদী উপন্যাস যার চালচিত্র সমকালীন এই ভারতবর্ষ। এই উপন্যাস জীবন এবং মৃত্যুর। প্রেমের এবং অপ্রেমের। অমর মিত্র তাঁর উপন্যাসে সমকালের কথা বলেন। চিরকালের কথা বলেন। এই উপন্যাসে বিপন্ন এই উপমহাদেশ তার ছায়া ফেলেছে দীর্ঘ। এই ছায়ার কথা আগে এভাবে লেখা হয়নি। এই রূপকে লেখা হয়নি।