
উপন্যাসের পরিবেশ নির্মাণকৌশল
চরিত্রের যাপিত জীবনের ঘটনা কার্যকারণসূত্রে অন্বিত হলে তাকে আখ্যান বলা হয়। এই আখ্যানের সঙ্গে চরিত্রের যে যোগ তা কালগত-স্থানগতভাবে অনিবার্যতায় জারিত হয়। জীবনের কল্পিত আখ্যানকে বাস্তবানুগ ও বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে ঔপন্যাসিককে চরিত্রের ও কাহিনির মানানসই পরিবেশ নির্মাণ করেন। এই পরিবেশ নির্মাণ বা বর্ণনা বলতে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক দৃশ্যের বর্ণনা নয়-উপন্যাসের কাহিনিকে পাঠকের বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবতার নিরিখে নির্মাণ করতে চরিত্রের জীবনাভিজ্ঞতার সমান্তরালে দেশ-কাল- সমাজকে অঙ্কন করার নিগূঢ় পদ্ধতি।
আখ্যান ও চরিত্রের সঙ্গে দেশ-কাল-সমাজের মেলবন্ধনটি সুদৃঢ় করতে পরিবেশ নির্মাণকৌশল অতীব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দেয উপন্যাসের প্রকরণকৌশলে। উপন্যাসের কোনো কাহিনিই চরিত্র ও সময়-সমাজ-বহির্ভূত নয়। উপন্যাসের পটভূমি প্রাকৃতিক-ভৌগোলিক-সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে। সময় ও সমাজের সঙ্গে আখ্যানবস্তুর ভিত্তিভূমির সুবিন্যস্তকরণ পদ্ধতি উপন্যাসের পরিবেশ-কল্পনা বা সংস্থানপদ্ধতি (Setting)। পরিবেশ চরিত্রকে যেমন আন্দোলিত করে, তেমনি আখ্যানে পরিপুষ্টতা দান করে।
লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশক: শব্দচাষ প্রকাশ