‘যৌথ জীবনের ঘ্রাণ’ কবিতায় সব সময় আশা করা যায় না। কিন্তু কবিতায় জীব ও জীবনের দায় স্বীকার করতেই হয়। তারপরও বিতর্ক থাকে কে কবি আর কে কবি নয়। বদলে যাওয়া জীবনের শিহরণ কবিতায় যদি না থাকে তাকে কি কবিতা বলা যায়? যদি ‘মানুষ কবি’র সারাক্ষণের চিন্তায় থাকে মস্তক রক্ষার বাড়াবাড়ি, তাহলে মনন ও মগজের কথা কে বলবে! ‘পাণ্ডুলিপি’র কবিরা জগতের সত্যকে স্বীকার করে এগোতে চায়। এ যাত্রায় তাঁদের মিছিল তামাশার মতো মনে হতে পারে। ইদানীং দর্শকসারির লোকেরাও যখন জেনে গেছে দিয়াশলাইয়ের কাঠির কী জ্বলন ক্ষমতা, তখন আমরা হেঁটে যেতে চাই আরও সামনে। বহুলশ্রুত ‘কেউ কারো নয়’ যুগেও কবিতা আমাদের কাছে টানে সরবে। শিল্পীর দায় শুধু শিল্পের কাছে নয়; পুরো জীবনে যারা ‘শিল্প’ খোঁজার প্রয়োজন বোধ করে না, তাদের বিশ্বপ্রাপ্তির শিকে যেন না ছেঁড়ে, সেদিকটাও শিল্পীর লক্ষ্য হওয়া চাই। নেট দুনিয়ায় অনলাইন কোডিং খাবারে হয়তো ঢেকুর উঠবে শীঘ্রই; তখনও কবিতার মঞ্চ কি আমাদের আশা জাগাবে? ‘আপন মুঠোর স্বাধীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে’ একদিন এই স্লোগানও নিশ্চয় উঠবে। ‘পাণ্ডুলিপি’র কবিতা সংকলন—২’ সেদিন হয়তো ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব নেবে। সেই দায় থেকে সংকলনের সবার পক্ষ থেকে পাঠকের কাছে মাথাবনত করছি।