মেয়েটির হাসিটি খুব সুন্দর কিন্তু তার শব্দ করে হাসতে মানা, মেয়েটির কান্নার শব্দটি অত্যন্ত করুণ কিন্তু তার কাঁদতেও মানা। মেয়েটির হাঁটুনিতেও একটা আর্ট আছে কিন্তু তার ঘর থেকে বের হতে মানা। মেয়েটি এখন ক্লাস এইটের ছাত্রী, আগামীতে তার জেএসসি পরীক্ষা কিন্তু তার স্কুল যাওয়া বন্ধ। তার সবকিছু আটকা পড়েছে পারিবারিক বেড়াজালে। সে বাসায় বন্দি, তার কাজ শুধু ঘরে বসে অপেক্ষা করা। বিয়ের জন্য অপেক্ষা। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তার উচ্চাকাক্সক্ষাকে চিরদিনের মতো উৎসর্গ করে সমাজের চিরাচরিত নিয়মে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্বামী-সংসার নিয়ে দিন কাটানোর জন্য তার শুধু অপেক্ষা। মেয়েটির নাম পরী। ডানাকাটা পরীর মতোই সুন্দর মেয়েটি। সে যেন রূপে-গুণে অনন্যা। তিন বোনের মধ্যে পরী সবার ছোট। সেই শৈশব থেকে অবহেলা, অনাদর আর অবজ্ঞার মধ্যে বড় হয়েছে। বাবা-মা কোনোদিন স্কুলে পাঠায়নি। নিজে ব্র্যাক স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একদিন স্কুলে ভর্তি হয়ে ক্লাস এইট পর্যন্ত এসেছে। এখন তার বাবা-মা’র মাথা ভূত চেপেছে, বিয়ের ভূত। অবশেষে...