পৌরাণিক কথা-কাহিনির আকর্ষণ চিরায়ত। শুধু গল্প নয়, এইসব কথামালার পরতে পরতে আছে অখণ্ড ভারতবর্ষের ধূসর ইতিহাস। ইতিবৃত্তসমূহে লগ্ন হয়ে আছে প্রবহমান মানবজীবনের স্পন্দন ও বন্ধন। সুদূর অতীত এবং চলমান বর্তমানের এই সংযোগ পাঠককে বিস্মিত করে। একথা স্বীকার করতেই হবে, মহাভারত ও পুরাণের বহুবর্ণ কাহিনি নির্মাণে এখনকার জীবনচিত্র দুষ্প্রাপ্য নয়। প্রাচীন সাহিত্যের পুনঃপাঠ এখানেই সার্থক। একই সঙ্গে, মানুষের মর্মবীণার নিরবচ্ছিন্ন সুরঝঙ্কারের নিবিড় অনুসন্ধান, এই কাহিনিগুলির পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য। এই গ্রন্থে যে-সমস্ত মহাভারতীয় এবং পৌরাণিক আখ্যান গৃহীত হয়েছে, তাদের প্রাচীন মুকুরে কোনও-না-কোনওভাবে আধুনিক জীবন প্রতিবিম্বিত। কোথাও তা ইঙ্গিতে-আভাসে চিত্রায়িত, কোথাও-বা বিস্ময়করভাবে সুস্পষ্ট। অতিশক্তিশালী পুরুষশাসিত সমাজে, তৎকালীন নারীরা যেভাবে আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিজয়িনী হয়েছে, তা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। নারীকে মান্যতা প্রদানে, সম্মানজ্ঞাপনে পুরুষ বাধ্য হয়েছে। অবমাননার ঘূর্ণি থেকে উত্থিত হয়েছে নতুন নারীসমাজ। মূলপাঠ অবলম্বনে পঁচিশটি কথামালার এই পরিবেশন এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। আমাদের অন্তর, মনন ও প্রজ্ঞার প্রসারতা স্রোতধারার মতো বাধাহীন। অতীত থেকে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে তা এগিয়ে চলেছে। মহাকাব্য ও পুরাণসাহিত্যের পাঠক সেই যাত্রাপথের সঙ্গী।