"মায়ার মতো খারাপ জিনিস এই পৃথিবীতে দুটো নেই বুঝলে। এই মায়া মানুষকে ঘাটের পানিতে ডুবিয়ে মারে, মন চাইলে টেনে তুলে অতঃপর আবার মেরে দেয়।" ছোট্ট জীবনের গভীর এক সত্য পৌষ বলে দিলো অনায়াসে অথচ মুখে সেই ভাবখানা নেই। হেমন্তের মাঝেমধ্যে মনে হয় পৌষ'র মধ্য থেকে দুঃখের যে অনুভূতি সেটা ডিলিট হয়ে গিয়েছে। দুঃখ বাদে বাকি অনুভূতি গুলো আছে। সবচাইতে বেশি যেটা কাজ করে সেটা ওর জেদ আর উদাসীনতা। অভিমান জিনিসটার ছিটেফোঁটাও বাকি রয় নি ওর মাঝে। আবেগ কাজ করে না। যতটুকু যা আছে তা ও নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তুলে রেখেছে। এক শক্ত খোলসে আবৃত হওয়া যুবতী ওর বোনটা যাকে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। হেমন্ত ক্ষুদ্র শ্বাস ফেলে পৌষ'র আলমারি খুলে একদম সামনে থেকে কমলা আর গোলাপি রঙের মিশ্রণের শাড়ীটা বের করে। পৌষ'র মাথায় শাড়ি দিয়ে আঘাত করে আদেশের স্বরে বলে, "পেঁচিয়ে আয়।" পৌষ কথা বলে না। হেমন্ত এক পলক বাইরে তাকায়। ত্রাণ দিলে যেমন উৎসুক হয়ে মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক ওমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটা প্রাণী। মানুষ রূপী প্রাণীগুলোকে হেমন্ত ডেকে বললো, "ওর গাজরা কই?" পিহা হাতের রজনীর মাঝে গোলাপ দেওয়া গাজরা এগিয়ে দিলো। হেমন্ত তা টেবিলে রেখে নিজের পকেট থেকে চিকন এক বেলীফুলের মালা বের করলো। পকেটে থাকায় একটু নষ্ট হয়েছে। এগিয়ে এসে পৌষ'র হাতে দিয়ে শুধু বললো, "বেণী, খোঁপা যাই করিস না কেন, এটা পেঁচাবি।" পৌষ মাথা নাড়ে। ওকে বাথরুমে পাঠিয়ে বাইরে থেকে হেমন্ত বলে, "ওদের নিয়ে যাচ্ছি। দশ মিনিটের মধ্যে নিচে নামবি পৌষ নাহয় আমার হাত আর তোর গাল।" " আমার গাল দুটো তোমার দাদা তোমার নামে লিখেছিলো নাকি হেমু ভাই?" "লিখে দিলে সারাদিনে যথেষ্ট চড় খেতি তুই। তারাতাড়ি বের হবি। গেলাম।"