মনসুর মুসা এর লেখা ও নবযুগ প্রকাশনী প্রকাশনীর বই "প্রায়োগিক ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা | Buy this book at 135 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
"প্রায়োগিক ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ বিগত শতকে ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বড় রকমের উন্নয়ন, ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এবং প্রথম মহাযুদ্ধের শেষে ভাষাচর্চা এবং সেই সঙ্গে ভাষাবিজ্ঞান চর্চা একটি সনাতন ধারায় বিবর্তিত হচ্ছিল। ইউরােপে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণনামূলক ভাষাতত্ত্বের সীমিত কাজ হচ্ছিল। শতাব্দীর মধ্যবর্তীকালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ফলে অন্যভাষা জানার তাগিদ নানা কারণে প্রবল হয়ে উঠে। এতে করে ভাষাতত্ত্ব ক্রমে ভাষাবিজ্ঞানে রূপান্তরিত হয়। ভাষাচর্চা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসারী হতে গিয়ে একদিকে ভাষার তাত্ত্বিক বিকাশ যেমন ব্যাপ্তি লাভ করে তেমনি ভাষার। প্রায়ােগিক পদ্ধতিতেও আসে ব্যাপক উন্নয়ন। সুতরাং তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানের উন্নতির পাশাপাশি প্রায়ােগিক ভাষাবিজ্ঞানেও আসে পরিবর্তন। ভাষাকে নানা দিক থেকে দেখা হচ্ছে। ভাষা শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহন দু’ক্ষেত্রেই তাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রভাব অনুভূত হয়। ভাষা উন্নতি ও ভাষাচর্চার ফলে ভাষাকে যান্ত্রিক অগ্রগমনের সাথে সংশিষ্ট থাকতে হচ্ছে। প্রায়ােগিক ভাষাতত্ত্ব তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানের অগ্রগমনের ফসল। ভাষাশিক্ষা এখন সহজ হচ্ছে ভাষাশিক্ষাদান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারী হচ্ছে। ফলে সারা দুনিয়ার মানুষ পরস্পরের ভাষা জানার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। ভাষা শিক্ষার জন্য গবেষনাগার হচ্ছে, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাষার বিস্তার হচ্ছে। বাঙলা ভাষায়ও তার সুযােগ বিস্তৃত হচ্ছে। ভাষার প্রয়ােগ জীবনের সবক্ষেত্রে কমবেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে ভাষার প্রয়ােগ ছিল লেখাপড়া, পড়ালেখা, দলিল দস্তাবেজ, স্মৃতিস্মারক ইত্যাদিতে এখন ভাষার প্রয়ােগ। বিশ্বরাজনীতি থেকে গ্রামীন পঞ্চায়েৎ পর্যন্ত, পরমাণুবিজ্ঞানী। থেকে পরলােক সন্ধানী পুরাহিত কর্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ভাষাতত্ত্বে প্রবেশ করেছে গণিত, পরিসংখ্যান, দর্শন মনস্তত্ত্ব, জৈব রসায়ন, স্নায়ুবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পরিগণক শাস্ত্র-কণাতত্ত্ব, মহাকাশতত্ত্ব, এককথায় জীবনের সর্বত্র, এমনকি পরলােকেও। ফলে প্রায়ােগিক ভাষাবিজ্ঞানের প্রয়ােজনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত না হলেও ব্যাপক অংশে প্রায়ােগিক ভাষাতত্ত্বের অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রায়ােগিক ভাষাতত্ত্ব একটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষার বিজ্ঞানসম্মত পরিচয় জানার জন্য এ ধরনের সহজবােধ্য গ্রন্থের প্রয়ােজন অস্বীকার করা যায় না।