“এই মেয়ে দাঁড়াও!” থেমে গেল কায়নাতের পা। বুক কাঁপছে দুরুদুরু, কাঁপছে চোখের পাতা, ঠোঁট তিরতির করে কম্পিত হচ্ছে। অর্ণ কায়নাতের থেকে ঠিক কয়েক হাত দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে আছে। কায়নাত পিছু ঘুরে তাকাল না, তবে শুকনো ঢোক গিলে বলল, “বলুন?” অর্ণ বিরক্তিকর কণ্ঠে শুধোয়, “সকাল সকাল এই ছাদ নষ্ট করলে কেন?” ছাদ নষ্ট করেছে? কায়নাত অবাক হয়ে মাথা নিচু করে পাশে তাকাল। একটু জায়গায় মাটি ঢেলেছে সে—তা ছাড়া পুরো ছাদ পরিষ্কার। বেজায় বিরক্ত হলো সে। দাঁতে দাঁত চাপল অর্ণর বাক্য শুনে। কালকে রাতে এই লোকের সাথেই তার ধাক্কা লেগেছিল খুব ভালো করে বুঝে গেছে। এভাবেই কালকে ধমক দিয়েছিল এই লোক। কায়নাত গেটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল, “ময়লা করেছি বেশ করেছি। দরকার হলে পুরো বাড়ি ময়লা করব, তাতে আপনার কী? অসভ্য লোক!” অর্ণর কপালে ভাঁজ। সেই ভাঁজ ফেলে তাকিয়ে ছিল ষোড়শীর পিছুপানে। ঘন লম্বা চুল গুলো পিঠ ছড়িয়ে খিলখিল করে হাসছিল। অর্ণ এত বড় চুল কখনও দেখেছে বলে মনে হলো না। উজ্জ্বল রাঙা গায়ে ছিল সাদা রঙের সালোয়ার-কামিজ। মেয়েটা চলে গেছে ততক্ষণে। একদম দৃষ্টির আড়ালে। কে এই ষোড়শী? কী তার পরিচয়?