রাহুল সাংকৃত্যায়ন মুখবন্ধ রাহুল সাংকৃত্যায়ন এক বিরল প্রতিভার অধিকারী। রাহুলের সমগ্র জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাঁর জীবন ইতিহাস চার ভাগে বিভক্ত যথা—(১) সন্ন্যাস জীবন (২) পরিব্রাজক জীবন (৩) রাজনৈতিক জীবন (৪) সাহিত্যিক জীবন। জীবনে স্থায়ীভাবে কোনো পথকে বেছে নেননি। এগুলোর মধ্যে থেকে তিনি যদি একটি পথকে স্থায়ীভাবে বেছে নিতেন, তাহলে আরও অজস্র মূল্যবান জিনিসের প্রাপ্তি ঘটত যা থেকে দেশ সমৃদ্ধ হত। সবচেয়ে অবাক লাগে যে, প্রথাগত শিক্ষা বলতে যা বোঝায় তা তাঁর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছিল। ভারতের একজন স্বনামধন্য পর্যটক, বৌদ্ধ সহ বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত, মার্কসীয় শাস্ত্রে দীক্ষিত, জীবনের ৪৫ বছর ব্যয় করেছেন বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে, বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাদানে সুদক্ষ, ৩৫টি ভাষায় ভাষাবিদ এবং সুলেখক, ১৫০-এর অধিক গ্রন্থের রচয়িতা, হিন্দি ভ্রমণসাহিত্যের জনক প্রভৃতি এমন বহুগুণ সম্পন্ন ব্যক্তি বিশ্বের ইতিহাসে সত্যই দুর্লভ। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এরূপ কয়েকজন ক্ষণজন্মা মনীষীর আবির্ভাব ভারতবর্ষের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। তাঁদের মতো বিস্মৃতপ্রায় মনীষীদের জীবনকথা আজকের এই অবক্ষয়প্রাপ্ত জাতির মনে চেতনা ও প্রেরণা আনে, সেই আশায় রাহুল সাংকৃত্যায়নের জীবন ও চরিত্র চিত্রণের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।