বাস্তবের সাথে কল্পনা মিলিয়ে আধাে ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং একই সাথে তা পাঠকের কাছে বিশ্বাসযােগ্যভাবে তুলে ধরা চাট্টিখানি কথা নয়। অতিপ্রাকৃত গল্পগুলি পড়তে গিয়ে তাে মনে হয়েছে এসবই লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা, এমন-ই প্রাণবন্ত লেখনী। এতে প্রয়ােজন লেখকের অনন্য মুন্সিয়ানা, যা রয়েছে লেখক রাজ কামাল আহমেদ-এর। তার লেখার সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য দিকটি হলাে সামাজিক দায়বদ্ধতা। যা-ই লিখেন, যে ফরম্যাটেই লিখেন, এমনকি তা যদি রূপকথার গল্পও হয়, সেখানেও থাকে সমাজ ও জাতির প্রতি একটি বিশেষ বার্তা। যেটির কথা শত বছর আগেই নাদেজদা ক্রুপস্কায়া বলতেন তার সকল লেখায়। শুধু তাই-ই নয়, তিনি এই বার্তাটি অনেকটা স্লোগানে রূপান্তরিত করে ফেলেছিলেন, যার প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই রাজ কামাল আহমেদ-এর গল্পগুলিতে। কিছু গল্প তাে রীতিমতাে দর্পণে আঁকা সমাজই মনে হয়েছে আমার কাছে। সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারের সতর্কতামূলক বার্তাও তিনি ক্যারিশম্যাটিক পন্থায় উপস্থাপন করেছেন গল্পের মাধ্যমে। রম্যগল্পগুলি নির্মল এবং দমফাটানাে হাস্যরসের হলেও সেগুলির মধ্য দিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে সচেষ্ট। রাজ কামাল আহমেদ-এর এই বৈচিত্র্যময় বহুমাত্রিকতা তাঁকে অন্য লেখকদের থেকে অনন্য করে তুলেছে। “রাত্রির যাত্রী” তার প্রথম প্রকাশনা।