“...মেয়েদের চাতুরী দিয়ে ঘরকন্না চালাতে হয়, সেটা দেশের সেবায় লাগালে ঐ স্ত্রীবুদ্ধি ষােলআনা কাজে লাগতে পারে। পুরুষরা বােকা, তারা আমাদের বলে সরলা, অখলা-এই নামের আড়ালেই আমরা সাধ্বীপনা করে থাকি আর ঐ খােকার বাবারা মুগ্ধ হয়ে যায়। আমরা অবলা অখলা কুকুরের গলায় শিকলের মতাে এই খ্যাতি গলায় পড়ে থাকি, আর তােমরা আমাদের পিছন পিছন টেনে নিয়ে বেরাও। তার চেয়ে সত্যি কথা বলাে-না-কেনসুযােগ পেলে তােমরাও ঠকাতে জানাে, সুযােগ পেলে আমরাও ঠকাতে জানি। আমরা এত বােকা নই যে শুধু ঠকবই আর ঠকাবনা। ... সংসারে মেয়েরা দুঃখের কারবার করতেই এসেছে। সেই দুঃখ কেবল আমি ঘরকন্নার কাজে ফুকে দিতে পারবনা। আমি চাই সেই দুঃখের আগুনে জ্বালিয়ে দেব দেশের যত জমানাে আস্তাকুড়।” [‘বদনাম', গল্পগুচ্ছ/ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]। এই প্রবন্ধে এমন সব ব্যক্তিত্বব্যঞ্জক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নারীর স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।